Lina Tapasi - Bangla Musicলীনা তাপসী খান একজন নিবেদিতপ্রাণ নজরুলসঙ্গীত শিল্পী। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে চলেছেন নজরুল সঙ্গীতে। অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন শুদ্ধ নজরুলসঙ্গীতের বিকাশে। সম্প্রতি জি-সিরিজের ব্যানারে প্রকাশ পেয়েছে তার নজরুলসঙ্গীতের একক অ্যালবাম চৈতি চাঁদের আলো। অ্যালবাম ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন সৌরভ রাহমান।

চৈতি চাঁদের আলো আপনার কতোতম অ্যালবাম?
এটি আমার ষষ্ঠ অ্যালবাম।

এর আগের অ্যালবামগুলো সম্পর্কে বলুন।
এর আগে নজরুলগীতি নামে প্রথম ক্যাসেট বেরোয় ১৯৮৬ সালে। এরপর হাজার তারার ভিড়ে, খেলিছ এ বিশ্বলয়ে, তুমি কি আসিবে না, মোনাজাত ইত্যাদি নজরুলসঙ্গীতের অ্যালবাম বেরোয়। এর মধ্যে চারটি অ্যালবামই প্রকাশ করেছে জি-সিরিজ প্রোডাকশন।

দীর্ঘ বিরতির পর চৈতি চাঁদের আলো অ্যালবামটি বের হলো, কারণ কি?
কারণ জি-সিরিজ ছাড়া অন্য মিউজিক কোম্পানিগুলো নজরুলসঙ্গীতের অ্যালবাম বের করতে চায় না। জি-সিরিজ নজরুলসঙ্গীতের অ্যালবাম বের করে আমাদের দেশীয় সঙ্গীতের লালন ও বিকাশে অবদান রাখছে। জি-সিরিজকে ধন্যবাদ জানাই। জি-সিরিজের কাছ থেকে অন্য মিউজিক কোম্পানিগুলোর শিক্ষা নেয়া উচিত।

চৈতি চাঁদের আলো অ্যালবাম সম্পর্কে বলুন।
এ অ্যালবামটি আমার দীর্ঘ এক বছরের চিন্তা ও শ্রমের ফসল। এ অ্যালবামের ১২টি গানের সবকটি গানই ফোক, দেশাত্মবোধক, রোমান্টিক, নৃত্যসহ ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ভুক্ত। নৃত্যের গানের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ অ্যালবাম সেই অভাবও পূরণ করবে। সবকটি গানই নজরুল ইন্সটিটিউট প্রণীত স্বরলিপি অনুযায়ী করেছি, নজরুলের গায়কী অনুসরণের চেষ্টা করেছি।

আপনার সঙ্গীত শিক্ষা সম্পর্কে কিছু বলুন।
আমার বাবা এম এ খানের প্রেরণায় আমার সঙ্গীত শেখা শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। ১৯৮১ সালে ভারত সরকারের বৃত্তি পেয়ে ভারতের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে মাস্টার্স সম্পন্ন করি। পাশাপাশি ঢাকার মিউজিক কলেজ থেকে বি-মিউজ করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. রফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে নজরুলসঙ্গীতের সুর বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্য বিষয়ে এমফিল ডিগ্রি লাভ করেছি। বর্তমানে তারই তত্ত্বাবধানে নজরুলসঙ্গীতে রাগের ব্যবহার বিষয়ে পিএইচডি করছি। আশা করছি এ বছরই শেষ হবে পিএইচডি।

শুদ্ধ নজরুলসঙ্গীতের বিকাশে আপনার কি প্রয়াস রয়েছে?
আনন্দ গীত বাদ্যম নামে একটি সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেছি। শুধু নজরুলকে নিয়ে একটি বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করার স্বপ্ন দেখি। যেখানে নজরুল সাহিত্য, শুদ্ধ নজরুলসঙ্গীত সর্বোপরি নজরুলের আদর্শ বাস্তবায়িত হবে।

শ্রোতাদের উদ্দেশে কিছু বলুন।
যেসব শ্রোতা আমাদের গান শোনেন না আমি তাদের দোষ দিই না, শ্রোতারা সবসময়ই ভালো। আমরা নজরুল সঙ্গীতকে হয়তো শ্রোতাদের সামনে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারছি না। আমাদের মিডিয়াগুলো যদি আরো বেশি বেশি, আরেকটু প্রাইম টাইমে, আরেকটু কালারফুল করে নজরুলসঙ্গীতকে পরিবেশন করতো তবে হয়তো শ্রোতারা এর গুরুত্ব বুঝতো, এর প্রতি আরো আকৃষ্ট হতো।