ত্রিশ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হলেন পিরোজপুরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে চীনে অনুষ্ঠেয় ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার মূল আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

রোববার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সিটির রাজদর্শন হলে আয়োজিত গ্র্যান্ড ফাইনালে তার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হয়েছেন নিশাত নাওয়ার সালওয়া এবং দ্বিতীয় রানার আপ হন নাজিবা বুশরা।

সেরা সুন্দরীর মুকুট পরে উচ্ছ্বসিত ঐশী বলেন, “ভীষণ ভালো লাগছে। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকল।”

মূল আয়োজনে বাংলাদেশকে কিভাবে উপস্থাপন করবেন- প্রশ্নে তিনি বলেন, “দেশের সংস্কৃতিকে মনে ধারণ করি। আমি দেশকে ভালোবাসি, দেশের সংস্কৃতিকে ভালোবাসি। এতদিন আমি নিজের হয়ে লড়ছিলাম। এখন দেশের জন্য লড়ছি। এটা অনেক বড় দায়িত্ব আমার জন্য। সবার কাছে দোয়া চাইছি।”

১৮ বছর বয়সী ঐশী চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন। তার বাবা একজন সমাজকর্মী, মা শিক্ষিকা। দুই বোনের মধ্যে তিনি ছোট।

পড়াশোনার পাশাপাশি স্কুল ও কলেজে নিয়মিত বিতর্কে অংশ নিয়েছেন ঐশী। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও যুক্ত আছেন নাচে। সাঁতার, আঁকাআঁকি, লেখালেখি, গান, উপস্থাপনায়ও তার সমান আগ্রহ রয়েছে বলে জানান। যুক্ত আছেন বাল্যবিবাহ নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডেও।
ঐশীর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তার নিকটতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নিশাত ও নাজিবা।

নিশাত বলেন, “ওর (ঐশী) জন্য অনেক শুভকামনা থাকবে, ও যেন বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারে।”

ঢাকার মেয়ে নাজিবার চোখে প্রতিযোগিতার সবচেয়ে যোগ্য প্রতিযোগীই এবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায়।

আয়োজকরা জানান, এবার মূল পর্বের আগে প্রায় তিন মাস সময় পাওয়া যাবে। ফলে চূড়ান্ত বিজয়ীকে তৈরি করার সময় পাওয়া যাবে বেশি। বিশ্বখ্যাত গ্রুমার নয়নিকা চ্যাটার্জী তাকে তৈরি করাবেন। তার হাতেই ১৯৯৬ থেকে একাধিক প্রতিযোগী বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জিতেছেন।

অনুষ্ঠানে মূল বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন কণ্ঠশিল্পী শুভ্রদেব, মডেল ও অভিনেতা খালেদ হোসেন সুজন, মডেল শাবনাজ সাদিয়া ইমি ও ব্যারিস্টার ফারাবী। আইকন বিচারক হিসেবে ছিলেন মাইলস ব্যান্ডের শাফিন আহমেদ, হামিন আহমেদ ও কোরিওগ্রাফার আনিসুল ইসলাম হিরু।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ডিজে সনিকা, আরজে নিরব ও আজরা মাহমুদ।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ১০ প্রতিযোগী অংশ নেন। তারা হলেন নিশাত নাওয়ার সালওয়া, মনজিরা বাশার, ইশরাত জাহান সাবরিন, স্মিতা টুম্পা বাড়ৈ, আফরিন সুলতানা লাবণী, সুমনা নাথ অনন্যা, নাজিবা বুশরা, জান্নাতুল মাওয়া, শিরীন শিলা এবং জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।
প্রতিযোগীদের পরিবেশনার পাশাপাশি চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস নৃত্য পরিবেশন করেন, গান পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী মিনারসহ অনেকে।

এবার মূল তিনটি খেতাবের বাইরে আরো বেশ কয়েকটি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। ‘মিস ট্রেন্ডি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন স্মিতা টুম্পা, ‘বিহেভিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন আফরিন লাবণী, ‘মিস ইন্টিলিজেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন নিশাত নাওয়ার সালওয়া, ‘বেস্ট ফ্যাশন রানওয়ে অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন মন্দিরা, ‘মিস স্মাইলি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন অনন্যা, ‘মিস ফটোজেনিক অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন জান্নাতুল মাওয়া, ‘মিস ট্যালেন্টেড অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন নাজিবা বুশরা, ‘মিস পারসোনালিটি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন শিরীন শিলা, ‘মিস স্পোর্টি অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন ইশরাত জাহান সাবরিন, ‘বেস্ট এপিয়ারেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী।

এর আগে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় ২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন জেসিয়া ইসলাম। তার আগে বাংলাদেশ থেকে ২০০১ সালে ৫১তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তাবাসসুম ফেরদৌস শাওন।

বাংলাদেশ থেকে ১৯৯৪ সালে প্রথম বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন আনিকা তাহের। এরপর ইয়াসমিন বিলকিস সাথী (১৯৯৫), রেহনুমা দিলরুবা চিত্রা (১৯৯৬), শায়লা সিমি (১৯৯৮), তানিয়া রহমান তন্বী (১৯৯৯) ও সোনিয়া গাজী (২০০০) মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

সূত্র- বিডিনিউজ২৪